ঢাকা | বঙ্গাব্দ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের জমিতে অবৈধ স্থাপনা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 5, 2026 | ফটো কার্ড | সংবাদটি দেখেছেন: 61
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের জমিতে অবৈধ স্থাপনা ছবির ক্যাপশন : লক্ষ্মীপুরের রায়পুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের জমিতে অবৈধ স্থাপনা

সাম্প্রতিক স্বদেশ ডেক্স: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে দলিল লেখক মাহবুব হোসেন রুবেলের বিরুদ্ধে। তিনি রায়পুর দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক। ঘটনাটি ঘটেছে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর শহরস্থ সাব-রেজিস্টার অফিস বাউন্ডারির ভিতরে।

 

গত বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬ইং) সরজমিনে দেখা যায়, রায়পুর সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের ২০/২৫ গজ উত্তর-পূর্ব পার্শ্বে এবং দলিল লেখকদের বিশালাকার নতুন ভবন সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম পার্শ্বে নির্মাণাধীন একটি নতুন ভবনের নির্মাণের কাজের তদারকি করছেন অভিযুক্ত মাহবুব হোসেন রুবেল এবং অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগে কারাবরণকারী রায়পুর সাব-রেজিস্ট্রারী অফিসের নাইটগার্ড কাম ঝাড়ুদার মো. সোহেল।

উল্লখ্য, সোহেল সাব-রেজিস্ট্রারের ‘খাস লোক’ হিসেবে পরিচিত।

এর আগে ২০২৩ সালের ২৩ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক আতাউর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এসময় ঘুষের টাকাসহ ঝাড়ুদার সোহেলকে আটক করা হয়।

 

জানা যায়, ২০২৪ এর ৫ আগস্টের রাষ্ট্রীয় পটপরিবর্তনের পর বিএনপি’র কিছু প্রভাবশালী নেতাদের হস্তক্ষেপে কোনরূপ নির্বাচন ব্যতিরেকে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক ও ভেন্ডার কল্যাণ সমিতির পূর্বেকার নির্বাচিত কার্যকরী কমিটি ভেঙে গোলাম কিবরিয়াকে সভাপতি ও মাহবুব হোসেন রুবেলকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা দিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন দলিল লেখক এ প্রতিবেদককে বলেন, সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের বাউন্ডারির ভিতর সম্মুখভাগে পূর্বে দলিল লেখকদের জন্য একটি ভবন ছিল। পরবর্তীতে দলিল লেখকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০২১ সালে তৎকালীন জেলা রেজিস্ট্রারের অনুমতিক্রমে পুরাতন ভবনটির উত্তর পাশে বিশাল পরিসরের একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা হয় দলিল লেখক ও ভেন্ডারদের বসার জন্য। ৪৩ জন সনদ প্রাপ্ত দলিল লেখক চেয়ার, টেবিল আর ট্যুল পেতে নিজ নিজ কার্য সম্পন্ন করেন।

তারা আরো জানান, দলিল লেখকদের জন্য নির্মিত বিশালাকার ভবনটির আয়তন অনুযায়ী অন্তত এক'শ জনের বসার সুব্যবস্থা রয়েছে।

 

সাব-রেজিস্ট্রার অফিস বাউন্ডারির ভিতরে সরকারি জমিতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে জেলা রেজিস্ট্রারের লিখিত অনুমতির প্রয়োজন আছে কিনা এবিষয়ে দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন রুবেলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার সাহেবকে অবগত করেই ভবনটি নির্মাণ করছি।

তিনি আরো বলেন- 'এটা আমি যেসকল মা-বোনেরা জমি রেজিস্ট্রী সংক্রান্ত কাজে আসেন তাদের উপকারার্থে নির্মাণ করছি। নতুন এই ভবনের পূর্ব পার্শ্বের রুমটি মহিলাদের নামাজ, ব্রেস্ট ফিডিং ও বিশ্রাম এই তিনটি পার্টে বিভক্ত হয়ে ব্যবহার হবে। এর পিছনে একটি নতুন টয়লেটও নির্মাণ করা হয়েছে।'

নতুন ভবনটির পশ্চিম পার্শ্বের রুমটি কার বা কিসের জন্য বরাদ্দ সে প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সদুত্তর দেননি।

 

অভিযোগ উঠেছে, রুবেল নতুন ভবনের পশ্চিম পার্শ্বের রুমটি তার জন্য নির্মাণের উদ্দেশ্যে নির্মাণ করেছেন।

 

উল্লেখ্য, সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সম্মুখস্থ রাস্তার পূর্ব পার্শ্বে একটি বহুতল ভবনের দ্বিতীয় তলায় দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন রুবেলের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সুবিশাল একটি অফিস রয়েছে, যেখানে বসেই তিনি সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর তার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পূর্বে সাবরেজিস্টার কমপ্লেক্সে বিদ্যমান দলিল লেখকদের অফিসে তার জন্য নির্ধারিত স্থানে বসে তিনি দলিল সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

তাছাড়া বিভিন্ন বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, সামান্য একজন দলিল লেখক হয়েও রুবেল রাজকীয় জীবন-যাপনে অভ্যস্ত। তার যেমন রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আলাদা অফিস, পাশাপাশি রয়েছে পৌর শহরের ৭নং ওয়ার্ডে বিলাসবহুল দোতলা ডুপ্লেক্স দৃষ্টিনন্দন বাড়ি, নতুন ব্রান্ডের দামী গাড়ি। এমনকি তার হাতে দেখা যায় দুই-আড়াই লাখ টাকা মূল্যের লেটেস্ট মোবাইল ফোন।

 

বেশ কয়েকজন দলিল লেখক অভিযোগ করে বলেন, 'আমাদের অনেক দলিল লেখক যেখানে এই কাজ করে সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছি সেখানে রুবেল কিভাবে এ পেশায় থেকে স্বল্প সময়ে এতো বিত্তবৈভবের মালিক হয়ে এমন রাজকীয় শানসৈকতের জীবন-যাপন করছেন?'

তারা এ বিষয়ে দুদকের তদন্ত দাবী করেন।

 

জানা যায়, প্রতিটি দলিলে সরকারি নির্ধারিত 'ফি' এর অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয় সমিতির চাঁদা ও সাব রেজিস্ট্রারের খরচের কথা বলে। আর দাবীকৃত অর্থ দিতে ব্যার্থ হলে বা অপারগতা প্রকাশ করলে ঐ ব্যক্তির দলিল রেজিস্ট্রী হয়না।

সূত্র আরো জানায়, সমিতির চাঁদার নামে আদায়কৃত অর্থের সিংহভাগ এবং সাব রেজিস্ট্রারের খরচের নাম করে নেওয়া অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ চলে যায় সাধারণ সম্পাদকের পকেটে। যার মাসিক পরিমাণ ৮/১০ লক্ষ টাকার কম নয়।

 

রায়পুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. ইউনুস এর সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি এবিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং পরে কথা বলবেন বলে জানান।

 

এরপর এ প্রতিবেদক চলে যান রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুন্নাহার এর কাছে। তিনি সদ্য যোগদান করেছেন এমন মন্তব্য করে এবিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে পরে জানাবেন বলে জানিয়েছেন।

 

এ প্রতিবেদক তখন জোলা রেজিস্ট্রার নীরোদ বরণ বিশ্বাস এর সাথে মোবাইল ফোনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'রায়পুর সাব-রেজিস্ট্রার কমপ্লেক্সের ভিতর কোন নতুন ভবন নির্মাণের অনুমতি আমি দেইনি এবং নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়ে আমি অবগত নই। তিনি আরো বলেন, সরকারি সম্পত্তিতে অনুমতি ব্যতীত কোনরূপ স্থাপনা নির্মাণ বেআইনী ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।'



নিউজটি পোস্ট করেছেন : Md Rassel Patwary

কমেন্ট বক্স
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের জমিতে অবৈধ স্থাপন

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের জমিতে অবৈধ স্থাপন