সাম্প্রতিক স্বদেশ ডেক্স: মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) “মাদকের বিরুদ্ধে তরুণ সমাজ”(Youth Against Drugs) শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস ও কাউন্সিলিং অ্যান্ড ওয়েলবিং সেন্টার (সিডব্লিউসি)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে শিক্ষার্থী, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকরা অংশগ্রহণ করেন। মাদকের অপব্যবহার এবং মানবজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিই ছিল আয়োজনটির মূল লক্ষ্য।
স্বাগত বক্তব্যে প্রফেসর ড. আব্দুল খালেক শৃঙ্খলার মাধ্যমে সাফল্য অর্জনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি শিক্ষার্থীদের আসক্তির পরিবর্তে স্বাস্থ্য, জীবন ও স্বপ্নকে বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাদককে ‘না’ বলার শপথ নিতে বলেন।
এনএসইউ কাউন্সিলিং অ্যান্ড ওয়েলবিং সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন মাদকনির্ভর ব্যক্তিদের জন্য সামগ্রিক সহায়তা ও প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
মূল বক্তব্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অতিরিক্ত মহাপরিচালক (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ গোলাম আজম দেশের মাদক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি মাদক ব্যবহার ও সরবরাহ কমাতে ডিএনসির বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অতিথি বক্তা টিচ ফর বাংলাদেশের সিইও মুনিয়া ইসলাম মজুমদার তরুণদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিবেক দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান। মাদকের কারণে সমাজ ও ব্যক্তিজীবনে কী হারাচ্ছি এবং এর বিপরীতে কী পাচ্ছি—তা নিয়ে তরুণদের ভাবার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথি ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন তরুণদের সত্যিকারের সহমর্মী হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে শক্তিশালী নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
এনএসইউ ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য বেনজীর আহমেদ মাদকের পরিবর্তিত চিত্র তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে মাদক একটি বড় সামাজিক সমস্যায় রূপ নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মাদকের ব্যবহার প্রতিরোধে তিনি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদের হুইপ ও সংসদ সদস্য এ.বি.এম. আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, “বাংলাদেশের তরুণরা যদি বিপ্লবের নেতৃত্ব দিতে পারে, তবে তারা মাদকের বিরুদ্ধেও লড়াই করতে পারবে। মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য আরেকটি বিপ্লব ঘটানো সম্ভব।”
তিনি শিক্ষার্থীদের নীতি-নৈতিকতা মেনে চলার পাশাপাশি প্রয়োজনে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
সমাপনী বক্তব্যে এনএসইউর উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরী ক্যাম্পাসে মাদকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি শৈশবের মানসিক আঘাত পরবর্তী সময়ে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা এবং আসক্তির দিকে নিয়ে যেতে পারে বলেও উল্লেখ করেন।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাসার ইউ. আহমেদ মাদকাসক্তি থেকে মুক্তির ক্ষেত্রে পারিবারিক সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি মাদকের কুফল সম্পর্কে জ্ঞান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হওয়ার মাধ্যমে মাদক প্রতিরোধ সম্ভব বলে মন্তব্য করেন। পাশাপাশি জাতীয় পাঠ্যক্রমে ‘মাদকবিষয়ক সচেতনতা’ অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।
সেমিনারে বক্তারা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণদের সচেতনতা, নৈতিক মূল্যবোধ, পারিবারিক সহযোগিতা এবং সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


















